*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !* *(#পর্ব_১৯,চলবে)*
*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !*
*(#পর্ব_১৯)*
"#এ_সখি_হামারি_দুখের_নাহি_ওর ৷ এ ভরা বাদর , মাহ ভাদর ,
শূন্য মোর মন্দির ॥
ঝঞ্ঝা ঘন গরজন্তি সন্ততি
ভুবন ভরি বরিখন্তিয়া ৷
কান্ত পাহুন বিরহ দারুণ
সঘন খর শর হন্তিয়া ॥
কুলিশ শত শত পাত মোদিত
ময়ূর নাচত মাতিয়া ৷
মত্ত দাদুরি ডাকে ডাহুকী
ফাটি যাওত ছাতিয়া ॥
তিমির দিগভরি ঘোর যামিনী
অথির বিজুরিক পাঁতিয়া ৷
বিদ্যাপতি কহ কৈছে গোঙায়বি
হরি বিনে দিন রাতিয়া ॥
#ব্রজরাজনন্দন
শ্যামসুন্দরকে হারাইবার প্রবল বিরহে শ্রীরাধার যখন চরম বিকারাবস্থা, অর্থাৎ দশমীদশা, ভক্তিশাস্ত্র মতে তখনই শ্রীরাধিকাদেবীর মুখে কৃষ্ণনাম মহামন্ত্রের প্রকাশ হয়েছিল ৷ শ্যামবিরহিণী শ্রীরাধাঠাকুরাণী সেই মহামন্ত্র জপতে জপতে যখনই তাঁর প্রাণবল্লভের বংশীধ্বনি শ্রবন করত, তখনই তাঁর বিরহাগ্নি নির্বাপিত হত ৷ এই কৃষ্ণনাম মহামন্ত্রের মধ্যেই শ্যামসুন্দরের সহিত শ্রীরাধিকার প্রণয় বিলাসের নিগূঢ় রহস্য লুকিয়ে আছে ইহাই প্রমানিত হয় ৷ সেই অপূর্ব রমনীয় ব্রজলীলারসপুর মহামন্ত্রই হরিদাসঠাকুর রাধাভাবাবিষ্ট মহাপ্রভুকে নিত্যদিন শ্রবণ করাতেন এবং নিজের একান্ত বাঞ্ছিত তাহা শ্রবন করে মহাপ্রভু কাঙ্খিত কৃষ্ণমাধুর্য অনুভব করতেন ৷"
"#হরিদাস_সঙ্গই_ছিল মহাপ্রভুর সর্বোত্তম সঙ্গ এবং এই কারণেই তিনি প্রতিদিন হরিদাস মিলনে যেতেন ৷ মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের কয়েকমাস পূর্ব থেকেই যে চরমতম কৃষ্ণবিরহ ভাবের স্ফূরণ হয়েছিল তার মুখ্যহেতু ছিল এই সিদ্ধ বকুল তলায় হরিদাস নির্যাণ , কারণ মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের কয়েকমাস পূর্বে এই সিদ্ধ বকুল তলায় মহাপ্রভুর প্রাণপ্রিয় ভক্ত হরিদাসঠাকুরকে হারাতেই হরিদাস বিরহ জনিত বেদনার সহিত কৃষ্ণবিরহযুক্ত বেদনা সংযুক্ত হওয়ায় মহাপ্রভুর চরমতম বিরহ দশা দেখা দিয়েছিল—
*#অতঃপর_মহাপ্রভুর_বিষন্ন_অন্তর ৷ কৃষ্ণের বিয়োগ-দশা স্ফূরে নিরন্তর ॥*
হা ! হা কৃষ্ণ ! প্রাণনাথ ব্রজেন্দ্রনন্দন ৷ কাঁহা যাও , কাঁহা পাঙ মুরলীবদন ॥
রাত্রি দিনে এই দশা স্বাস্থ্য নাহি মনে ৷ কষ্টে রাত্রি গোঙায় স্বরূপ-রামানন্দ সনে ॥ (চৈ;চ;-৩/১২/৩/৪/৫)
#মহাপ্রভুর
গম্ভীরা লীলায় কৃষ্ণবিরহরূপ অপার্থিব বেদনার স্ফূর্তি প্রাণাধিক প্রিয় হরিদাস ঠাকুরের বিরহের সহিত সমম্বিত হয়ে মহাপ্রভুকে যে সত্য সত্যই অধিকতর বিরহোন্মাদ দশায় উন্নীত করে গম্ভীরার আশ্রয়রূপ চরমতম লীলায় পরিণত করেছিল তা শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের অন্ত্যলীলার একাদশ পরিচ্ছেদে হরিদাস নির্যাণ লীলাটি বর্ণনার পরবর্তী দ্বাদশ পরিচ্ছেদের উপরি উক্ত তিনটি পয়ার থেকেই স্পষ্ট বুঝা যায় ৷
(#জয়_মহাপ্রভু)



Comments